আত-তাওহীদ জামে মাসজিদ মাসিক হালাকা

আলাদিপুর মাজারপাড়ার বুকে নির্ভেজাল তাওহীদ, সহীহ সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীনের বুঝ অনুযায়ী বিশুদ্ধ ইসলাম শিক্ষা ও অন্তর পরিশুদ্ধির পবিত্র আয়োজন। শিরক-বিদআতের কুসংস্কার ভেঙে সত্যের আলো ছড়িয়ে দেওয়াই আমাদের মূল অঙ্গীকার।

🕌সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও ফ্রি
🍲সকলের জন্য উন্নত খাবার
💧বিশুদ্ধ সুপেয় পানির ব্যবস্থা
🎙️বিজ্ঞ ও হক্কানী স্কলারবৃন্দ
📖ফ্রি ইসলামিক বই ও লিফলেট
🤝আন্তরিক ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ
কুরআন ও হাদিসের আলোকে

দ্বীনি হালাকার গুরুত্ব ও অপরিসীম ফজিলত

আল্লাহর ঘরে একত্রিত হয়ে দ্বীনের সহীহ জ্ঞান অর্জন করা পরকালীন মুক্তির এক শ্রেষ্ঠতম মাধ্যম।

“যখনই কোনো কওম আল্লাহর কোনো ঘরে সমবেত হয়ে আল্লাহর কিতাব পাঠ করে এবং পরস্পরে তা নিয়ে আলোচনা ও শিক্ষা বিনিময় করে—তখন তাদের ওপর আল্লাহর সাকীনা (প্রশান্তি) নাযিল হয়, রহমত তাদেরকে ঢেকে নেয়, ফেরেশতাগণ তাঁদের সসম্মানে ঘিরে রাখেন এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর নৈকট্যপ্রাপ্তদের মজলিসে তাঁদের প্রশংসা করেন।”

— সহীহ মুসলিম: ২৬৯৯ (রিয়াদুস সালেহীন: ১০২৩)
১

বিশুদ্ধ ইলম অর্জন ও জাহালাত দূরীকরণ

দ্বীনের মৌলিক জ্ঞান অর্জন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর ফরজ। মাসিক হালাকায় কুরআনুল কারীম ও সহীহ হাদিসের সরাসরি উদ্ধৃতি দিয়ে আকিদা, দৈনন্দিন সালাত, হালাল-হারাম ও লেনদেনের নির্ভুল বিধান হাতে-কলমে শেখানো হয়।

২

আত্মশুদ্ধি (তাযকিয়াহ) ও পরকালীন চেতনা

পার্থিব ব্যস্ততায় মানুষের হৃদয় কঠোর হয়ে যায়। হক্কানী ওলামায়ে কেরামের বয়ান, জাহান্নামের ভয় ও জান্নাতের সুসংবাদ কঠোর হৃদয়কে নরম করে এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও খাঁটি তাওবায় অনুপ্রাণিত করে।

৩

রহমতের বেষ্টনী ও মাগফিরাত লাভ

রাসূল (ﷺ) ঘোষণা দিয়েছেন, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ইলমের মজলিসে বসে, মজলিস শেষে তাদের বলা হয়—“উঠে দাঁড়াও, তোমাদের পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলোকে নেকিতে রূপান্তর করা হয়েছে।”

৪

পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক সংশ্লেষ

হালাকার মাধ্যমে সমাজের সকল স্তরের মানুষ—ধনী-গরিব, যুবক-বৃদ্ধ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক কাতারে বসে। এতে অহংকার চূর্ণ হয় এবং সুন্নাহভিত্তিক ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও আমাদের দাওয়াতি জিহাদ

আলাদিপুর মাজারপাড়া ও স্থানীয় অঞ্চলে শিরকের মোকাবেলায় তাওহীদের বিস্তার

আমাদের মাসজিদের অবস্থান রাজবাড়ী সদরের আলাদিপুর মাজারপাড়া এলাকায়। নামটি লক্ষ্য করলেই বোঝা যায়, বহু যুগ ধরে এই অঞ্চলের সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে মাজার-কেন্দ্রিক ভক্তি, ওরস, কবরপূজা, পীরভক্তি, গায়রুল্লাহর নামে মানত, তাগা-তাবিজ ও বিভিন্ন শিরকি ও বিদআতী কুসংস্কার গভীরভাবে প্রোথিত ছিল।

অসচেতনতার কারণে মানুষ না জেনে রোগমুক্তি, সন্তান কামনা বা বিপদ উদ্ধারের জন্য মৃত মানুষের কবরে মাথা ঠুকত, যা ইসলামে সবচেয়ে বড় অপরাধ ও ক্ষমার অযোগ্য পাপ—শিরক। আল্লাহ তাআলা কুরআনে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন:

“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না, এ ছাড়া অন্য যে-কোনো পাপ যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করে দেন।”

— সূরা আন-নিসা: ৪৮

ঠিক এই অন্ধকার দূর করতেই আত-তাওহীদ জামে মাসজিদের মাসিক হালাকা বিশুদ্ধ তাওহীদের আলো ছড়াচ্ছে। আমরা কারো সাথে কোনো প্রকার শত্রুতা, বিশৃঙ্খলা বা বিদ্বেষ ছড়াই না; বরং হিকমত, পরম মমতা ও প্রামাণ্য কুরআন-হাদিসের অকাট্য দলিলের মাধ্যমে মানুষের সামনে তাওহীদ ও শিরকের পার্থক্য উন্মোচন করছি।

স্থানীয় জনপদে দৃশ্যমান পরিবর্তন

  • ✓মাজার ভক্তি বর্জন: বহু মুসল্লি কবরে সিজদা ও মধ্যস্থতা খোঁজার শিরকি আকিদা ত্যাগ করে খাঁটি তাওহীদের পথে ফিরে এসেছেন।
  • ✓যুবসমাজের জাগরণ: স্থানীয় তরুণ প্রজন্ম কুসংস্কার ত্যাগ করে সহীহ হাদিস অনুযায়ী সালাত ও চরিত্র গঠনে নিয়োজিত হচ্ছে।
  • ✓সরাসরি আল্লাহর কাছে দুআ: মানুষ শিখছে বিপদ-আপদে কেবল একমাত্র স্রষ্টা আল্লাহর কাছেই হাত তুলতে হয়, কোনো সৃষ্টির কাছে নয়।
  • ✓ঘরে ঘরে সহীহ সুন্নাহর চর্চা: প্রতিটি হালাকা শেষে মুসল্লিরা সহীহ বই নিয়ে পরিবারের মাঝে বিশুদ্ধ আমল ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
মেহমানদের ইকরাম ও আতিথেয়তা

হালাকায় আমাদের সেবা ও বিশেষ সুবিধাসমূহ

দূর-দূরান্ত ও স্থানীয় এলাকা থেকে আগত আল্লাহর মেহমানদের জন্য আত-তাওহীদ জামে মাসজিদে সর্বোচ্চ যত্ন ও সুব্যবস্থা রাখা হয়।

🍲

উন্নত খাবার ও আপ্যায়ন

হালাকায় অংশগ্রহণকারী সকল ভাই ও মেহমানদের সম্মানে হালাকা শেষে পুষ্টিকর ও সুস্বাদু খাবারের আন্তরিক ব্যবস্থা করা হয়, যাতে দূর থেকে আসা ভাইদের কোনো কষ্ট না হয়।

💧

বিশুদ্ধ সুপেয় পানি ও চা-নাস্তা

হালাকার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন বিশুদ্ধ সুপেয় পানি, অজু ও ওয়াশরুমের পরিচ্ছন্ন সুবিধা এবং মেহমানদের জন্য হালকা রিফ্রেশমেন্টের সুব্যবস্থা রাখা হয়।

❓

উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর ও কাউন্সিলিং

বয়ান শেষে সাধারণ মুসল্লি ও যুবকরা তাদের আক্বীদা, দৈনন্দিন সালাত, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক বিভ্রান্তি সংক্রান্ত যেকোনো প্রশ্ন সরাসরি বিজ্ঞ শায়েখদের করতে পারেন।

📚

বিনামূল্যে সহীহ বই ও লিফলেট বিতরণ

শিরক-বিদআত বর্জন ও সহীহ সালাতের নিয়মাবলীর ওপর প্রামাণ্য ইসলামিক বই, পুস্তিকা ও লিফলেট বিনামূল্যে দেওয়া হয় যাতে প্রতিটি পরিবারে সত্যের আলো পৌঁছে যায়।

🤝

দ্বীনি ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক সম্প্রীতি

সমাজের সর্বস্তরের মুসলিম ভাইয়েরা এক কাতারে বসে নির্ভেজাল দ্বীন শেখেন। এতে পারস্পরিক অহংকার দূর হয়ে সুন্নাহভিত্তিক খাঁটি সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ব সুদৃঢ় হয়।

🔊

সুশৃঙ্খল পরিবেশ ও আধুনিক সাউন্ড

কোনো হট্টগোল বা বিশৃঙ্খলা ছাড়াই শান্ত ও মনোরম পরিবেশে যাতে সবাই কথা শুনতে পারেন, তার জন্য মানসম্মত সাউন্ড সিস্টেম ও সুশৃঙ্খল বসার ব্যবস্থা করা হয়।

ইলমে ওহীর ধারক ও বাহক

হালাকায় আমন্ত্রিত বিজ্ঞ আলোচকবৃন্দ

কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর নির্ভেজাল বাণী পৌঁছে দিতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আত-তাওহীদ জামে মাসজিদে আগমনকারী বিশিষ্ট স্কলারগণ।

সকল আলোচকদের প্রোফাইল
ড. আব্দুল বাসির বিন নওশাদ মাদানি

ড. আব্দুল বাসির বিন নওশাদ মাদানি

পিএইচডি, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (সৌদি আরব)

সহকারী অধ্যাপক ও একাডেমিক প্রধান, কুল্লিয়াতুল কুরআনিল কারীম। সহীহ সুন্নাহ ও বিশুদ্ধ আক্বীদার প্রসারে নিবেদিতপ্রাণ দাঈ ও গবেষক।

উত্তরা, ঢাকাবিস্তারিত →
শায়খ রফিকুল ইসলাম বিন সাঈদ

শায়খ রফিকুল ইসলাম বিন সাঈদ

কামিল (হাদিস ও তাফসীর, ১ম বিভাগ)

বিশিষ্ট ইসলামি আলোচক, লেখক ও পরিচালক (সহীহ সুন্নাহ মিডিয়া)। শিরক ও বিদআতমুক্ত সমাজ গঠনে দীর্ঘদিন ধরে নিরলস কাজ করছেন।

ঢাকা, বাংলাদেশবিস্তারিত →
শায়খ নাজির আহমেদ মাদানি

শায়খ নাজির আহমেদ মাদানি

লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (সৌদি আরব)

মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর আলোকে বিশুদ্ধ আকীদা প্রচার এবং দ্বীনি নসীহতে নিবেদিত আলেমে দ্বীন।

রাজবাড়ীবিস্তারিত →
হাফেজ মোঃ শফিকুল ইসলাম

হাফেজ মোঃ শফিকুল ইসলাম

হিফজুল কুরআন (হাফেজে কুরআন)

বিশিষ্ট ইসলামি আলোচক ও হাফেজে কুরআন। কুরআনুল কারীমের সহীহ তিলাওয়াত, আত্মশুদ্ধি ও পরকালীন জীবনের প্রস্তুতি বিষয়ে মূল্যবান নসীহত পেশ করেন।

কালোচাদপুর, রাজবাড়ীবিস্তারিত →

বিশেষ জ্ঞাতব্য: হালাকা ছাড়াও প্রতি জুমায় এবং বিশেষ আয়োজনে আমন্ত্রিত ওলামায়ে কেরামের পূর্ণ তালিকা ও পরিচিতি আমাদের আলোচকবৃন্দ পাতায় সংরক্ষিত রয়েছে।

পূর্ণ তালিকা দেখুন →

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

মাসিক হালাকায় অংশগ্রহণ সংক্রান্ত সাধারণ কিছু জিজ্ঞাসা ও উত্তর

আত-তাওহীদ জামে মাসজিদের মাসিক হালাকা প্রতি ইংরেজি মাসের নির্ধারিত একটি জুমার দিনে বা সুবিধাজনক তারিখে আসর কিংবা মাগরিবের পর থেকে এশা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। নির্দিষ্ট তারিখ ও সময় প্রতি মাসের শুরুতে আমাদের মাসজিদের নোটিশ বোর্ড, সোশ্যাল মিডিয়া এবং স্থানীয়ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়।

হালাকা বিষয়ে কোনো প্রশ্ন বা পরামর্শ আছে?

মাসিক হালাকার তারিখ, সময়, যাতায়াতের দিকনির্দেশনা বা যেকোনো প্রয়োজনে আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন।

যোগাযোগ ও লোকেশন ম্যাপ